July 28, 2026
বাংলাদেশের হাতে বোনা ঐতিহ্য, এখন আপনার ঘরের জন্য কাস্টম তৈরি

শতরঞ্জি রাগ: বাংলাদেশের হাতে বোনা ঐতিহ্য, এখন আপনার ঘরের জন্য কাস্টম তৈরি
গল্প, কারুকাজ এবং কেন একটি হাতে বোনা শতরঞ্জি রাগ কারখানায় তৈরি রাগের মতো নয়
“হ্যান্ডমেড” শব্দটি মার্কেটিং টার্ম হওয়ার অনেক আগে থেকেই বাংলাদেশের রংপুর অঞ্চলের তাঁতিরা তুলা, পাট আর উল দিয়ে এমন রাগ বুনতেন, যা একইসঙ্গে কম্বল, জায়নামাজ আর পারিবারিক উত্তরাধিকার হিসেবে ব্যবহৃত হতো। এই কারুশিল্পের নাম শতরঞ্জি — যা সাতরঞ্জি নামেও পরিচিত — আর এটি দক্ষিণ এশিয়ার সেই কয়েকটি টেক্সটাইল ঐতিহ্যের একটি, যা ঔপনিবেশিক বাণিজ্য, দেশভাগ এবং কয়েক দশকের সস্তা যন্ত্রে তৈরি প্রতিযোগিতা পেরিয়েও আজও প্রায় একই নিয়মে তৈরি হয় — হাতে, তাঁতে, এক সারি এক সারি করে।
শতরঞ্জি রাগ আসলে কী?
শতরঞ্জি একইসঙ্গে একটি বুননশৈলীর নাম এবং সেই শৈলীতে তৈরি সমতল বোনা কার্পেটের নাম। গিঁট দেওয়া বা টাফটেড রাগের বিপরীতে শতরঞ্জি রাগ সমতলভাবে বোনা হয়, যা একে হালকা, দুই পিঠেই ব্যবহারযোগ্য এবং সহজে ভাঁজ করে রাখা বা এক ঘর থেকে অন্য ঘরে সরানোর উপযোগী করে তোলে। এই রাগগুলো তাদের সাহসী জ্যামিতিক ও ফুলেল মোটিফের জন্য পরিচিত, যা কাপড়ের ওপর ছাপ দেওয়া নয়, বরং সরাসরি বুননের মধ্যেই তৈরি — গাঢ় লাল, নীল, সবুজ ও হলুদ রঙে, যা এই কারুশিল্পের চেনা বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছে।
ইতিহাসে গড়া একটি কারুশিল্প
একটি শতরঞ্জি রাগ বুনতে প্রকৃত দক্ষতা আর সময় লাগে বলে ঐতিহাসিকভাবে এটি ছিল ব্যয়বহুল একটি সামগ্রী — বহু প্রজন্ম ধরে বাড়িতে একটি শতরঞ্জি থাকা সামাজিক মর্যাদার প্রতীক হিসেবে গণ্য হতো। ব্রিটিশ শাসনামলে এই বাণিজ্য বাংলার সীমানা ছাড়িয়ে বিস্তৃত হয়, আর শতরঞ্জি কার্পেট শ্রীলঙ্কা, বার্মা, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় রপ্তানি হতে থাকে।
১৯৪৭ সালে ভারত বিভাজনের পর চাহিদা হঠাৎ কমে যায়, আর এই কারুশিল্প প্রায় হারিয়েই যাচ্ছিল, শুধু রংপুরের হাতে-গোনা কিছু তাঁতি পরিবারের হাত ধরে টিকে ছিল। গত কয়েক দশকে হ্যান্ডলুম টেক্সটাইল আর ধীরে তৈরি পণ্যের প্রতি বিশ্বব্যাপী আগ্রহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই শতরঞ্জি বুনন আবার নতুন করে চাহিদা খুঁজে পেয়েছে — বাংলাদেশের অভ্যন্তরে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে, দুই জায়গাতেই।
একটি শতরঞ্জি রাগ এমন দুটি জিনিস বহন করে, যা কোনো যন্ত্র কখনও নকল করতে পারে না — যে হাত এটি বুনেছে, আর যে অঞ্চল থেকে এটি এসেছে।
শতরঞ্জি রাগ কীভাবে বোনা হয়
প্রতিটি শতরঞ্জি রাগ হাতে চালানো তাঁতে তৈরি হয় — কোনো ধাপেই যন্ত্রচালিত বুনন ব্যবহার করা হয় না। কারিগররা ঐতিহ্যগতভাবে পাট, সুতি, শেনিল (ভেলভেটের মতো) সুতা আর উল ব্যবহার করেন, যা প্রাকৃতিক ও আধুনিক রঙের মিশ্রণে রাঙানো হয়, যাতে এই কারুশিল্পের বৈশিষ্ট্যপূর্ণ গাঢ় রঙ ফুটে ওঠে। জ্যামিতিক ও ফুলেল নকশাগুলো বুননের মধ্যেই সারি সারি করে তৈরি হয়, তাই একই ডিজাইনের দুটি রাগও কখনও পুরোপুরি একরকম হয় না। এটি কোনো ত্রুটি নয় — এটাই প্রমাণ করে যে এটি মানুষের হাতে তৈরি, যন্ত্রে নয়।
কেন একটি কাস্টম, হাতে তৈরি শতরঞ্জি রাগ বেছে নেবেন
- টেকসই ও বাতাস চলাচলে সহায়ক — সুতি ও পাটের মতো প্রাকৃতিক তন্তু নিয়মিত ব্যবহার সহ্য করে এবং সিন্থেটিক রাগের চেয়ে গরম, আর্দ্র আবহাওয়ায় অনেক বেশি উপযোগী।
- সত্যিকার অর্থে একক — হাতে বোনার কারণে প্রতিটি রাগ আলাদা হয়, এমনকি একই নকশার মধ্যেও।
- আপনার জায়গার মাপে তৈরি — কাস্টম অর্ডার মানে সঠিক মাপ, রঙ ও নকশা বেছে নেওয়া, কারখানায় যে মাপ পাওয়া যায় তাতে সন্তুষ্ট না থেকে।
- কারিগরদের জীবিকায় সহায়তা — সরাসরি হাতে বোনা শতরঞ্জি কেনা মানে এই প্রায়-বিলুপ্ত কারুশিল্প টিকিয়ে রাখা তাঁতি পরিবারগুলোকে সহায়তা করা।
- বহুমুখী ব্যবহার — হালকা ও দুই পিঠেই ব্যবহারযোগ্য হওয়ায় শতরঞ্জি রাগ লিভিং রুমের মূল আকর্ষণ, বিছানার পাশে, জায়নামাজ বা টেবিল রানার — সবখানেই মানানসই।
আপনার শতরঞ্জি রাগের যত্ন নেবেন যেভাবে
- প্রাকৃতিক তন্তু যেন জট না বাঁধে, তাই নিয়মিত কম সাকশনে ভ্যাকুয়াম করুন বা ঝেড়ে নিন।
- দাগ পড়লে সঙ্গে সঙ্গে পরিষ্কার কাপড় দিয়ে চেপে তুলুন, তারপর মৃদু সাবান ও পানি দিয়ে স্পট ক্লিন করুন — কড়া রাসায়নিক ক্লিনার এড়িয়ে চলুন।
- প্রাকৃতিক রঙ যেন ফ্যাকাশে না হয়ে যায়, তাই সরাসরি রোদ থেকে দূরে সমতলভাবে শুকান।
- পায়ের চলাচল ও রোদ যেন সমানভাবে পড়ে, তাই মাঝেমধ্যে রাগটি ঘুরিয়ে দিন।
রংপুরের বুনন ঐতিহ্য নিয়ে আসুন আপনার ঘরে
রেডিমেড শতরঞ্জি রাগ কিনুন, অথবা আমাদের তাঁতিদের সঙ্গে মিলে আপনার জায়গার জন্য কাস্টম মাপ, রঙ ও নকশা তৈরি করুন।
কালেকশন দেখুন কাস্টম রাগ ডিজাইন করুন
Leave a Reply